ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও মাঠকর্মী নিয়োগ পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় সৃষ্ট ক্ষোভের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকারের কক্ষের সামনের থাই গ্লাস লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, কর্মকর্তার কক্ষের সামনের থাই গ্লাস ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইটের টুকরো হামলার আলামত বহন করছে।
অফিস সূত্রে জানা যায়, ২৬ জুলাই ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও মাঠকর্মী নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে শনিবার গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পূর্বনির্ধারিত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং ২৯ জুলাই আবেদন যাচাই-বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ মুহূর্তে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ কোনো পক্ষ এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। জানা গেছে, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় এর আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঝুমুর সরকার বলেন, “আমি অফিসে পৌঁছানোর আগেই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ ছিল। গত রাতে অধিদপ্তর থেকে নিয়োগের সময়সূচি পরিবর্তনের নির্দেশ আসে। সেই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ কেউ এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরে এলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বক্তব্য চেয়ে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউ